সর্বশেষ

সাইবার অপরাধ গবেষণা: পুরুষরা হ্যাকিং, নারীরা বেশি উত্ত্যক্তের শিকার

/ আইনের আশ্রয় চেয়ে সেবা পেয়েছেন ৭ শতাংশ /

প্রকাশ :


২৪খবরবিডি: 'দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নানাভাবে বুলিংয়ের (উত্ত্যক্ত) শিকার হচ্ছেন। ছবি বিকৃত করে সাইবার স্পেসে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করা হয়। নারীরা এ ধরনের অপরাধের বেশি শিকার হন।'
 

পুরুষরা মোবাইল ব্যাংকিং ও এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ের মতো সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন বেশি। সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা আইনের আশ্রয় চেয়েছেন, তাঁদের মাত্র ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ সেবা পেয়েছেন বা আশানুরূপ ফল পেয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে 'বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা ২০২২' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশই আইনের আশ্রয় নেন না। লোকলজ্জার ভয়সহ বিভিন্ন কারণে অপরাধের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন না। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ আটটি সুপারিশ তুলে ধরা হয় এই প্রতিবেদনে।


-সিসিএ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত ব্যক্তি পর্যায়ে ভুক্তভোগী ১৯৯ জনকে ১৮টি প্রশ্ন করা হয়। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন গবেষক দলের প্রধান ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার মনিরা নাজমী জাহান। তিনি বলেন, গবেষণায় জানা গেছে করোনা-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রচার বাড়ছে। করোনাকালে অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেকে হয়রানির শিকার হয়েছেন। কাজী মুস্তাফিজ বলেন, গবেষণায় সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় ভুক্তভোগীরা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। ভার্চুয়াল জগতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে আর বেশি কিছু করার থাকে না। সাইবার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সচেতন হওয়া জরুরি।
 

'অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির পরিচালক সাকিফ আহমেদ বলেন, দেশে ১২ থেকে ১৫ হাজার অবৈধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের লগ সংরক্ষণ করে না। অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত বা নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে লগ সংরক্ষণ করা জরুরি। প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে যেসব সাইবার অপরাধ ঘটে, সেসবের তথ্য পাওয়া যায় না। তা ছাড়া বর্তমানে গুজবও মারাত্মক বিষয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সুলতানা ইশরাত জাহান বলেন, অনেকে সাইবার অপরাধের শিকার হয়েও অভিযোগ করেন না। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনকে আইন মেনেই কাজ করতে হয়। অপরাধের শিকার হলে দ্রুত থানায় যোগাযোগ করতে হবে।'


-প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই সংস্থার করা গত বছরের প্রতিবেদনের চেয়ে এবারের প্রতিবেদনে সাইবার বুলিংয়ে ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

সাইবার অপরাধ গবেষণা: পুরুষরা হ্যাকিং, নারীরা বেশি উত্ত্যক্তের শিকার

গতবার ৫০ দশমিক ১৬ শতাংশ বুলিংয়ের শিকার হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া এবার দেশে আশঙ্কাজনকভাবে সামাজিকমাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং বা তথ্য চুরি বেড়েছে।
 

সাইবার অপরাধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, যার হার ২৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গতবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনা ছিল ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। যৌন হয়রানিমূলক একান্ত ব্যাক্তিগত মুহূর্তে ছবি বা ভিডিও (পর্নোগ্রাফি) ব্যবহার করে হয়রানির গতবার ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ হলেও এবার তা বেড়ে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ফটোশপে ছবি বিকৃত করে হয়রানির ঘটনা গতবারের তুলনায় এক দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।


-সংস্থাটি জেন্ডারভিত্তিক অপরাধের ধরন বিশ্নেষণ করে দেখিয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্য পুরুষ ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং নারী ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে সাইবার অপরাধ কমাতে ব্যাপকভাবে সাইবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম, জাতীয় বাজেটে সাইবার সচেতনতায় গুরুত্ব দেওয়া, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআরে সাইবার সচেতনতা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাইবার পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা, সাইবার সাক্ষরতা বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক কাজে রাজনৈতিক জনশক্তির সঠিক ব্যবহার, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ও অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত